মধ্যমেয়াদি অর্থায়নের উৎসসমূহ

5/5 - (13 votes)

সাধারণত এক বছরের অধিক কিন্তু পাঁচ বা সাত বৎসরের কম সময়ের জন্য যে অর্থসংস্থান করা হয় তাকে মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন বলেমধ্যময়য়াদি অর্থায়নের বিভিন্ন উৎস রয়েছে এ উৎসসমূহ হতে
সহজে ব্যবসায় অর্থায়ন করা যায়

মধ্যমেয়াদি অর্থায়নের উৎসসমূহ
মধ্যমেয়াদি অর্থায়নের উৎসসমূহ

নিম্নে মধ্যমেয়াদি অর্থসংস্থানের উৎসসমূহ বর্ণনা করা হলােঃ

১. বাণিজ্যিক ব্যাংকঃ বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ সাধারণত মধ্যমেয়াদি অর্থসংস্থান করে থাকে। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয় না। কারণ বাণিজ্যিক ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি আমানতের পরিমাণ কম।

২. বিমা কোম্পানিঃ বিমা কোম্পানিসমূহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মধ্যমেয়াদি অর্থসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এদের ব্যবসায় প্রকৃতি হলাে ব্যবসায় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহে মধ্যমেয়াদি ঋণ প্রদান করে মুনাফা
অর্জন করা। কারণ বিমার প্রিমিয়াম ও বিমার দাবি পরিশােধ্য পার্থক্যই বিমা কোম্পানির লাভ, যা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে মধ্যমেয়াদি ঋণ হিসেবে দিয়ে থাকে।

৩. উন্নয়ন ব্যাংকঃ উন্নয়ন ব্যাংক এক ধরনের ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান যা কোনাে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রকে উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠান করা হয় ।

৪. উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানঃ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা মধ্যমেয়াদি ঋণ সরবরাহ করে থাকে। যেমন-বাংলাদেশ ডেভেলপম্যান্ট ব্যাংক,হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কোম্পানি ইত্যাদি।

৫.ফাইন্যান্স কোম্পানিঃ ফাইন্যান্স কোম্পানি এক ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অর্থসংস্থানের প্রয়ােজন মিটিয়ে থাকে।

৬. যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারীগণঃ মেশিনারী প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ মধ্যমেয়াদি ঋণ সরবরাহ করে থাকে। তাছাড়া এ প্রতিষ্ঠান ভাড়া বা কিস্তিতে ক্রয়ের সুযােগ দিয়ে মধ্যমেয়াদি অর্থসংস্থানের কাজ করে থাকে।

৭. পেনশন তহবিলঃ মধ্যমেয়াদি অর্থসংস্থানের উৎস হিসেবে ঋণগ্রহীতাগণ কর্মচারীদের পেনশন তহবিল ব্যবহার করে থাকে।

৮.ইজারা কোম্পানিঃ ইজারা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে মধ্যমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে। সর্বাধিক দশ বছর মেয়াদের জন্য যদি কোনাে সম্পত্তি গ্রহণ করা হয় তবে তাকে মধ্যমেয়াদি অর্থসংস্থানের উৎস হিসেবে গণ্য করা হবে। যা ইজারা কোম্পানির কাছ থেকে সংগ্রহ করা।

৯. ইসলামী ব্যাংকঃ ইসলামী ব্যাংকসমূহ মধ্যমেয়াদি ঋণ সরবরাহ না করলেও ভাড়া ক্রয় বা ইজারা পদ্ধতিতে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে থাকে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানিতে ইসলামী ব্যাংক মুরাবাহা ও বাইসালাম পদ্ধতিতে বিনিয়ােগ সহায়তা দিয়ে থাকে।

আরো পড়ুনঃ এসডিআর কি?

উপসংহারঃ উপরিউক্ত উৎসসমূহ মধ্যমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্র
হিসাবে ব্যবহৃত হয়। তবে আধুনিককালে অনেক নতুন নতুন আর্থিক কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে।

আশাকরি মধ্যমেয়াদি অর্থায়নের উৎসসমূহ সম্পর্কে ভাল ধারনা পেয়েছেন। আরো কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করতে পারেন।

1 thought on “মধ্যমেয়াদি অর্থায়নের উৎসসমূহ”

Leave a Comment