অধ্যবসায় রচনা ২০ পয়েন্ট

4.9/5 - (30 votes)

অধ্যবসায় রচনা

ভূমিকা : “কেন পান্থ ক্ষান্ত হও, হেরি দীর্ঘ পথ উদ্যম বিহনে কার পুরে মনােরথ ?” (-কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার) সময়ের সঙ্গে জীবন, জীবনের সঙ্গে কর্ম ও অধ্যবসায় একই বিনিসুতাের মালায় গাঁথা। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনা করা যায় না। এ পৃথিবীতে যে-কোনাে কাজ করতে গেলেই সফলতা ও বিফলতা উভয় প্রকার ঘটনাই ঘটতে পারে। অধ্যবসায় সফলতার চাবিকাঠি। অধ্যবসায় ছাড়া মানবজীবনে উন্নতির আশা কল্পনা মাত্র।

অধ্যবসায় কি? ও এর বৈশিষ্ট্যঃ

মানুষ জীবনকে সাজাতে চায়, সফল করতে চায় কিন্তু জীবনের পথ খুব সহজ নয়।জীবনের সব কাজই সহজে সমাধান হয় না। অনেক কাজেই প্রথমবারে সফলতা আসে না। এমনকী পরের বারও সফলতা নাও আসতে পারে। কিন্তু এতে হতাশ হলে চলবে না। বার বার চেষ্টা করতে হয়। তাতে এক সময় না একসময় সাফল্য আসরে। সাফল্য লাভের এই প্রয়াসই অধ্যবসায়। এই ধারণাকে কবি ফুটিয়ে তুলেছেন প্রবাদতুল্য একটি কবিতায়।

‘পারিব না এ কথাটি বলিও না আর, পারাে কি না পারাে করাে যতন আবার। একবার না পারিলে দেখ শতবার।

কোনাে কাজে সফলতা অর্জন করতে হলে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা করার নামই অধ্যবসায়।অধ্যবসায় হচ্ছে কতিপয় গুণের সমষ্টি। চেষ্টা, উদ্যোগ, আন্তরিকতা, পরিশ্রম, ধৈর্য ইত্যাদি গুণের সমন্বয়ে অধ্যবসায় পরিপূর্ণতা লাভ করে। মনের আস্থা ও বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপদানের জন্যে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্যের মধ্য দিয়ে ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌছানাের মধ্যেই অধ্যবসায়ের সার্থকতা নিহিত। বিশ্ববিখ্যাত মিথ লেখক কামু তাঁর ‘মিথ অফ সিসিকাস’-এর সূচনা করেছেন এভাবে, দেখা যাচ্ছে, এই কাহিনির নায়ক ভারী একখানি পাথর বয়ে তুলছে। পাহাড়ের ওপর, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই তা পড়ে যাচ্ছে শতশত ফিট নিচে। আবার তাকে তুলতে হচ্ছে। এই তার নির্ধারিত শাস্তি। কিন্তু হতোদ্যম হয়নি সে। এভাবে যতোবার তুলছে এই ভারী পাথরুখ ততােবারই তা আবার নিচে পড়ে যাচ্ছে। সত্য বটে, এই সফলতাহীন কাজে কোনাে আনন্দ নেই, সুখ নেই কিন্তু মিথ অফ সিসিকাসের নায়ক পরাভবকে স্বীকার করে না, যতবার পড়ে যায় ততবার সে টেনে তােলে সেই পাথরখন্ড।

এই যার সাধনা ও অধ্যবসায় সেই মানুষ কি কথনে হারতে পারে। বর্তমান পৃথিবীর মানুষও এই অবিরাম অব্যাহত প্রয়াস ও উদ্যমকেই বেছে নিয়েছে। তার অধ্যবসায়ের বলেই সফল ভাকে হতে হবে। সফল সে হচ্ছেও। আনে, বিজ্ঞানে , নৈপুণ্যে , দক্ষতায় শিল্পে, সাহিতে! , সীত, কীড়ায়, আবিষ্কারে, । সে তার অধ্যবসায়ের গুণে, শ্রম ও সাধনায় আলােকিত বিকশিত, উদ্ভাসিত করছে পৃথিবী। পৃথিবীর এই উন্নতি ও সাফল্যের মূলে রয়েছে অনেক বছরের নিরলস অধ্যবসায়।

অধ্যবসায়ের গুরুত্ব বা প্রয়ােজনঃ

মানবসভ্যতার মূলে রয়েছে অধ্যবসায়ের এক বিরাট মহিমা। মানবজীবনের যেসব গুণ জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে গড়ে তুলতে পারে তার মধ্যে ‘অধ্যবসায় হল অন্যতম।মানবজীবনের যে কোনাে কাজে বাধা আসতে পারে, কিন্তু সে-বাধাকে ভয় করলে চলবে না, কেননা জীবনের সমস্যাকে এড়িয়ে যাবার অর্থ হচ্ছে, জীবনকে অস্বীকার করা।—দিন লিনি।। রাতের আঁধার পেরিয়ে যেমন দিনের আলাে এসে দেখা দেয়, ঠিক তেমনি বার বার অবিরাম চেষ্টার ফলেই মানুষের প্রকাশে উদিত হয় সাফল্যের শুক তারা! অধ্যবসায়ের গুণেই মানুষ বড় হয়, অসাধ্য সাধন করতে পারে।

সকল ধর্মগ্রন্হে অধ্যবসায়কে একটি চারিত্রিক গুণ হিসেবে দেখানাে হয়েছে। বিশ্বাস, মেধা, সুযােগ কোনাে কিছুই চুপ্ত সার্থকতা এনে দিতে পারে না যদি না তাদের যথার্থ প্রয়ােগে অধ্যবসাকেই মুখ্য করে তােলা হয়। সংসারে প্রতিটি মানুষকে তার জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে অসংখ্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়। একমাত্র অধ্যবসায়ী ব্যক্তির পক্ষেই এসব বাধাবিঘ্ন অতিক্ৰম করে জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়া সভবপর। নিজেকে সত্যিকার মানুষ হিসেবে গড়ে তােলার জন্যে এবং দেশ, জাতি ও বৃহত্তর মানবসমাজের জন্যে তাকে কিছু-না-কিছু অবদান রাখতে হয়। এ ক্ষেত্রে অবসায়ের কোনাে বিকল্প নেই। যে অধ্যবসায়ী নয় মনের দিক থেকে সে পঙ্গু। ফলে সমাজে তার দ্বারা কোনাে মহৎ কাজ করা সম্ভব নয়। বস্তুত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অধ্যবসায়ের প্রয়ােজন অপরিসীম। নৈরাশ্য বা ব্যর্থতাকে জয় করার প্রধান উপায় হচ্ছে অধ্যবসায়— “Faiture is the pillar of success”

অধ্যবসায়ের উদাহরণঃ

জগতে যত বড় শিল্পী, সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক, সেনানায়ক, ধর্মপ্রবর্তক রয়েছেন তাদের সবাই ছিলেন অধ্যবসায়ী। ইতিহাসের পাতায় পাতায় রয়েছে তার দৃষ্টান্ত মহাকবি ফেরদৌসি দীর্ঘ তিরিশ বছর ধরে রচনা করেছিলেন অমর মহাকবি শাহনামা’ জ্ঞানেন্দ্রমোহন পাম বিশ বছরের এক প্রচেষ্টায় পচনা করেন এক লক্ষ পনেরাে হাজার শব্দ সংবলিত ‘বাঙ্গালা ভাষার অবিধান। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কোনাে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই নিজের চেষ্টা ও সাধনায় দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে সংগ্রহ করেছিলেন দু’হাজার প্রাচিন পুথি, যার ফলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রায় চল্লিশ বছরের ইতিহাসের অজানা অধ্যায় ঘটিত হয়।

১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে বেরোয় জনসনের বিখ্যাত অভিধন ‘এ ভিকরি অফ দি ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ যাকে ইংরেজ জাতি গ্রহণ করে এক মহৎ কীর্তিরূপে ।ফরাসিরা যা সম্পন্ন করেছে ‘অ্যাকডেমির সাহায্যে ইংরেজরা তা করেছে, এক ব্যক্তির শ্রমে-মেধায় , এ– তৃপ্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাষার মানরূপ শক্তির জন্যে অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার সমস্ত স্বপ্ন ত্যাগ করে ইংরেজ। মনীষী কার্লাইল অনেক বছরের শ্রমে ফরাসি বিপ্লবের এক অসামান্য ইতিহাস লিখেছিলেন। এ-সবই অধ্যবসায়ের ফসল। কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুস অধ্যবসায়ের আর এক জীবন্ত উদাহরণ। অগণিত ইংরেজ সৈন্যের সঙ্গে পুনঃপুন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পলায়ন করতে বাধ্য হয়েও রবার্ট ব্রুস ইংরেজ বাহিনীকে পরাজিত করার বাসনা ও চেষ্টা পরিত্যাগ করেন নি। বরং একনিষ্ঠ অধ্যবসায়ের ফলে তিনি যুদ্ধে জয়ী হন। এমনিভাবে স্যার ওয়াল্টার স্কট এ মতাে ব্যক্তি বার বার ব্যর্থ হয়েও অধ্যবসায়ের দ্বারা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর প্রথম জীবনে পিতৃরাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে অসহায় আঁীবনযাপন করতে বাধ্য হন।

কিন্তু তিনি অদম্য অধ্যবসায়ের বলে আফগানিস্তানের সম্রাট ও সমগ্র ভারতবর্ষের অধীশ্বর হয়েছিলেন। সম্রাট বাবরের পিতা তৈমুর লংও ছিলেন অধ্যবসায়ের মূর্তপ্রতীক। প্রবল অধ্যবসায়ের দ্বারাই তিনি নিজের আয়ত্তে আনেন এশিয়া ও ইউরোপের একাংশ। মহাবিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন নিজেই স্বীকার করেছেন বিজ্ঞানে তার অবদানের মূলে আছে বহু বছরের একনিষ্ঠ ও নিরবচ্ছিন্ন শ্রম। নেপােলিয়ন বােনাপার্ট বলেছেন,

‘Impossible us a word, which is only found in the dictionary of fools.’

অধ্যবসায় রচনা ২০ পয়েন্ট
অধ্যবসায় রচনা ২০ পয়েন্ট

অধ্যবসায়ীর জীবনাদর্শঃ

জীবন সংগ্রামে সাফল্য লাভের মূলমন্ত্র হচ্ছে অধ্যবসায়। অর্ধ পৃথিবীর অধীশ্বর নেপােলিয়ান তাঁর জীবনকর্মের মধ্য দিয়ে রেখে গেছেন অধ্যবসায়ের অপূর্ব নিদর্শন। কোনাে কাজকে তিনি অসম্ভব বলে মনে করতেন না। তাই তিনি একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও ফরাসি জাতির ভাগ্যবিধাত্রা হতে পেরেছিলেন। শুধু অধ্যবসায়ের বলেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগদীশচন্দ্র বসু, কাৰ্জী নজরুল ইসলাম প্রমুখ মনীষী বিশ্বখ্যাত হয়েছেন।পক্ষান্তরে, অধ্যবসায়ের অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় জীবন অকালে ঝরে যায়। অধ্যবসায়হীন ব্যক্তি জগতের কোন কাজেই সফলতা লাভ করতে পারে না। তার জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অধ্যবসায়ীকে কখনােই অসহিষ্ণু হলে চলবে না। অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজের যােগ্যতাকে অর্জন করা যেমন সম্ভব তেমনি যােগ্যতার বনে অনেক প্রতিকূলতা কাটিয়ে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে যাওয়াও বিচিত্র নয়। এক্ষেত্রে যেটা সবচেয়ে জরুরি তা হচ্ছে নিজের ওপর পরিপূর্ণ আস্থা। তাই অধ্যবসায়ী হওয়ার প্রয়ােজন উপলদ্ধি করে কবি বলেছেন—ধৈর্য ধরাে, ধৈর্য ধরো। বাধোঁ বাধোঁ বুক,/শত দিকে শত দুঃখ আসুক আসুক। অধ্যবসায় রচনা জীবনে দুঃখ আছে, গ্লানি আছে, পরাজয় আছে, ব্যর্থতা আছে, কিন্তু সেটাই শেষ কথা নয়। মানুষ তার উদ্যম ও প্রচেষ্টা নিয়ে এই ব্যর্থতাকে জয় করেছে।মানুষের এই জয়ের ইতিহাসই বর্তমান পৃথিবীর চিত্র। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন-

‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আসুন কালাে, আগুন জ্বালো, আগুন জ্বালা‘

ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়ের পুরুত্ব বিধাতা প্রত্যেক মানুষকেই পতিভা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিভাকে বিকশিত করার বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন। মানবজীবনের এই সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে হলে অধ্যবসায়ের কোনাে বিকল্প নেই। অনেকের ধারণা—অসাধারণ প্রতিভা ছাড়া কোনাে বড় কাজে সফলতা সম্ভব নয়। কিন্তু অসাধারণ প্রতিভা ছাড়াও নিরলস পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের আর যে কোনাে কাজে জয়যুক্ত হওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে বৈজ্ঞানিক নিউটন বলেছেন—’আমার আবিষ্কারের কারণ প্রতিভা নয়, বহু বছরের চিন্তাশীলতা ও পরিশ্রমের ফলে দুরূহ তত্ত্বগুলাের রহস্য আমি ধরতে পেরেছি। ফরাসি স্যর্শনিক ভলতেয়ার বলেছেন—

“প্রতিতা বলে কিছুই নেই। পরিশ্রম ও সাধনা করে যাও,

তাহলে প্রতিভাকে অগ্রাহ্য করতে পারবে। ডালটন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘লােকে আমাকে প্রতিভাবান বলে, কিন্তু আমি পারিশ্রম ছাড়া কিছুই জানি না। তাই প্রতিভা লাভ করতে হলে অধ্যবসায়ী হওয়া প্রয়ােজন, এবং প্রতিভাকে অধ্যবসায়ের গুণে কাজে লাগাতে হবে, অন্যথায় সে-প্রতিভা কোনাে কাজে আসবে না। অধ্যবসায় রচনা

ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব

ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব সর্বাধিক। ছাত্রজীবন আর অধ্যবসায় মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। বিদ্যার্জনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। অলস, কর্মবিমুখ ও হতাশ ছাত্র-ছাত্রী কখনও বিদ্যালাভে সফলতা অর্জন করতে পারে না। একজন অধ্যবসায়ী ছাত্র বা ছাত্রী মেধাসমন্ন না হলেও তার পক্ষে সাফল্য অর্জন করা কঠিন নয়।কাজেই অকৃতকার্য ছাত্র-ছাত্রীকে হতাশ না হয়ে পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে অধ্যবসায়ে মনােনিবেশ করা উচিত। এ প্রসঙ্গে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন,

‘কোন কাজ ধরে যে উত্তম সেই জন হউক সহস্র বিঘ্ন ছাড়ে না কখন?”

শুধু অধ্যবসায়ই পারে ব্যর্থতার গ্লানি মুছে দিয়ে সাফল্যের পথ দেখাতে।

জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্বঃ

মানুষ বিদ্যুৎ আবিষ্কার করে দুর করেছে আঁধার, বিমান আবিষ্কার করে জয় করেছে আকাশ, রকেটের সাহায্যে অর্জন করছে, চন্দ্র বিজয়ের গৌরব। আর এসব সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে মানুষের যুগ যুগান্তরের সাধনা, তার অবিরাম অধ্যবসায়। বর্তমান সভ্যতার যুগে মানুষ নিজ নিজ কৃষ্টি ও সভ্যতা অর্জন করতে চায়, পৌছতে চায় সভ্যতার চরম শিখরে। কিন্তু নানা প্রতিকুলতায় তা সহজে হয়ে ওঠে না। কোনাে সভ্যতাই একদিনে গড়ে ওঠেনি। বার বার চেষ্টা ও সাধনার দ্বারা পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সৃষ্টির প্রথম মানবগােষ্ঠীর সভ্যতাও সস্তরে স্তরে গড়ে উঠেছে। বস্তুত সামগ্রিকভাবে একটি জাতির সগৌরবে আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্যে সকল নাগরিকেরই অধ্যবসায়ী হওয়া প্রয়ােজন। পৃথিবীর বুকে তখনই মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে সগৌরবে আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ সচ্ছল যখন জাতীয় উন্নয়নে দল মত নির্বিশেষে সবাই সর্বশক্তি দিয়ে আত্ননিয়োগ করবে। তাই জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। অধ্যবসায় রচনা

অধ্যবসায় ও উন্নত বিশ্বঃ 

উন্নত বিশ্ব আজ অধ্যবসায়ের বলে সাফলের চরম শিখরে পৌঁছেছে। মালয়েশিয়া,থাইল্যান্ড, জাপান, কোরিয়া, আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র কেবল অধ্যবসায়ের গুণেই উন্নতির শীর্ষস্হানে অবস্থান করছে। অধ্যবসায় রচনা

অধ্যবসায় ও বাঙালি জাতি ও আমাদের কর্তব্য অধ্যবসায় রচনাঃ

আমরা বাঙালি জাতি। দুঃখজনক হলেও এ কথা সত্য যে,আমাদের অনেকের মধ্যে অধ্যবসায়ের মহৎ গুণটি অনুপস্থিত। আমাদের মধ্যে নেই কোনো প্রচেষ্টা, নেই কোনাে উদ্যম, কোনাে আগ্রহ। বরং আছে আস্ফালন, অহংকার, গরিমা ও নিজেকে প্রকাশ করার মিথ্যে বাহাদুরি। কেবল অধ্যবসায়ের অভাবে আজ আমরা এত পিছিয়ে আছি। জাতি হিসেবে আমরা তাই অনুন্নত। সুতরাং আর একটি মুহূর্তও বিলম্ব না করে নিজেদের অধ্যবসায়ী রূপে গড়ে তােলা খুবই জরুরি। আজ থেকে শত বছর আগে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন,  

পশ্চিম আজি খুলিয়াছে দ্বার। সেথা হতে সবে আনে উপহার’, আজ সেই দুয়ার আরাে বেশি খোলা আমরা যদি পেছনে পড়ে থাকি, উউদ্বুদ্ধ না হই, উদ্যোগ গ্রহণ না করি সে হবে আমাদের ব্যর্থতা।

আরো পড়ুনঃ মধ্যমেয়াদি অর্থায়নের উৎসসমূহ

আর ব্যর্থতার দায়ও আমাদেরই বহন করতে হবে। বহন করতেও হচ্ছে। উন্নত দেশের তুলনায় আমরা দরিদ্র থেকে আরাে দরিদ্র হচ্ছি, বাড়ছে আমাদের এই সংখ্যা, বেকারের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে হচ্ছে চার কোটি পৌনে চার কোটি। আমরা কেন পেছনে থাকব? এই বিজ্ঞান প্রযুক্তির উন্নতির যুগে, পৃথিবীর এই সাফল্য ও সমৃদ্ধির যুগে এই দুর্দশা ও দুরবস্থা কোনাে দান বা গৌরবের বিষয় নয়। উন্নতির জন্য চাই সাধনা। মাটির প্রদীপও রাত্রির গভীর অন্ধকার দূর করে। তাই ক্ষুদ্র সাধ্য ও সাধনা দিয়েই সবকিছু করা সম্ভব। সাধ্যমতাে চেষ্টা করলে, অধ্যবসায়ী হলে, সাধ্যমতাে উদ্যোগ নিলে, নিজের সাধ্য বা সামর্থ্যকে কাজে লাগালেই সমাজে অনেক বড়, বড় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। কিন্তু এই সাধ্যেরই সদ্ব্যবহার করি না আমরা। সাধ্য থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা নিষ্ক্রিয় ও উদ্যোগহীন। সব মানুষই কিছু কিছু পারে, কিছু কিছু পারে না। এই পারা, না-পারা নিয়েই মানুষ। আর এই নিয়েই তাকে শ্রম, সাধনা ও অধ্যবসায় করতে হয়। অধ্যবসায়ই তার পথ, এগিয়ে যাওয়ার পথ। পৃথিবীর সঙ্গে এভাবেই সে এগিয়ে যায়, অধ্যবসায়ের গুণে। অধ্যবসায় রচনা

উপসংহার অধ্যবসায় রচনাঃ

‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন’-অধ্যবসায় সম্পর্কিত একটি পরম সত্য প্রবাদ। যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী নয়, সে জীবনের কোনাে সাধারণ কাজেও সফলতা লাভ করতে পারে না। জীবনের সফলতা এবং বিফলতা অধ্যবসায়ের ওপরই নির্ভর করে, তাই আমাদের সকলের উচিত অধ্যবসায়ের মতাে মহৎ গুণটিকে আয়ত্ত করা ,পরশপাথরের মতাে এই পাথরটিকে ছুঁয়ে দেখা এবং সােনার কাঠির মতাে একে অর্জন করা। মনে রাখতে হবে অধ্যবসায়ই জীবন, জীবনই অধ্যবসায়।    

আশা করি অধ্যবসায় রচনা পড়ে উপকৃত হয়েছেন আরো কিছু জানার থাকতে কমেন্টে লিখতে পারেন।

ট্যাগঃ #অধ্যবসায় রচনা, #অধ্যবসায়ের গুরুত্ব, #জীবনে অধ্যবসায়য়ের গুরুত্ব রচনা #অধ্যবসায় রচনা

Leave a Comment